আজ- বৃহস্পতিবার, ১৪ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ঝড়ের সময় যা যা করা উচিত

আরও শক্তিশালী হয়ে দক্ষিণ-পশ্চিম বঙ্গোপসাগরের অবস্থান করছে ‘ফণী’। মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরকে সাত নম্বর বিপদ সংকেত দেখানো হয়েছে। তাছাড়া চট্টগ্রাম সমুদ্র বন্দরকে ৬ নম্বর বিপদ সংকেত এবং কক্সবাজার সমুদ্র বন্দরকে ৪ নম্বর হুঁশিয়ারি সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এছাড়া ফণীর কারণে দেশের সব নদীবন্দরে নৌযান বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত অতিপ্রবল ঘূর্ণিঝড় ফণি শুক্রবার বাংলাদেশে আঘাত হানতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এক বিজ্ঞপ্তিতে আবহাওয়া অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে শুক্রবার সকাল থেকে ফণি খুলনা ও তৎসংলগ্ন জেলার পূর্বাঞ্চলে প্রভাব ফেলতে পারে। সন্ধ্যায় ঘূর্ণিঝড়টি দক্ষিণ-পশ্চিমের জেলাগুলোতে আঘাত হানতে পারে।

এমতাবস্থায় সচেতন থাকার জন্য কিছু বিষয়ে নজর দিলে অনেক বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা বিপদ এড়িয়ে যাওয়া সম্ভব। চলুন জেনে নেই ঝড়ের সময় কি করা উচিত-

১। সবার আগে যেটা জরুরি তা হল প্যানিক না করা। মাথা ঠাণ্ডা রেখে বিপদের মোকাবিলা করতে হবে।

২। বাড়ির আশেপাশে বড় গাছের শুকিয়ে যাওয়া ডাল থাকলে আগে তা কেটে ফেলুন।

৩। প্রবল ঝড়ে উড়ে যেতে পারে এমন বস্তু খোলা জায়গা থেকে সরিয়ে ফেলুন। যেমন আলগা হয়ে যাওয়া ইট, টিন, ময়লার বাক্স, সাইন বোর্ড ইত্যাদি। কারণ দমকা হাওয়ায় এই সব উড়ে গিয়ে কোনও বিপদ ঘটাতে পারে।

৪। বাড়িতে মেরামতের প্রয়োজনের হলে আগেই সেটা করিয়ে নিন।

৫। হাতের সামনে কাঠের বোর্ড রাখুন। কাঠ বিদ্যুত অপরিবাহী।

৬। লন্ঠন বা হ্যারিকেন এবং টর্চ হাতের কাছে রাখুন।

৭। বাড়িতে খাবার মজুত করে রাখুন। বিশেষ করে নষ্ট না হয় এমন শুকনো খাবার। সব পাত্রে পানীয় জল ভরে রাখুন।

৮। প্রয়োজনীয় ওষুধ মজুত করে রাখুন। ফার্স্ট এড বক্স হাতের কাছে রাখবেন।

৯। কাজে যাওয়ার থাকলে আগে বাড়ি থেকে বের হন। অথবা কাজ থেকে তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে আসুন।

১০। ঝড়ের সময় বাড়িতেই থাকুন। বাড়ির এমন এক জায়গা বেছে নিন যেখানে নির্ভয়ে থাকতে পারবেন।

১১। কাঁচের জানলা থাকলে আগে থেকে তাতে শক্ত করে বোর্ড জাতীয় কিছু ঝুলিয়ে দিন। না হলে জানলা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।

১২। বাড়ির একতলায় যদি মিটার বক্স থাকে তাহলে ইলেকট্রিকের তার ঠিক আছে কিনা দেখে নিন। অনেক সময় মিটারের তার ঝুলে সেখান থেকে বিপত্তি ঘটে যেতে পারে।

১৩। পরিস্থিতির উপর নজর রাখুন। কোনও গুজবে কান দেবেন না।

ঘূর্ণিঝড়ের পরবর্তী করণীয়

১. আশ্রয়কেন্দ্র হতে মানুষকে বাড়ি ফিরতে সাহায্য করুন এবং নিজের ভিটায় বা গ্রামে অন্যদের মাথা গোঁজার ঠাঁই করে দিন।

২. রাস্তা-ঘাটের উপর উপড়ে পড়া গাছপালা সরিয়ে ফেলুন যাতে সহজে সাহায্যকারী দল আসতে পারে এবং দ্রুত যোগাযোগ সম্ভব হয়।

৩. ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বাসে ক্ষতিগ্রস্ত জনসাধারণ যাতে শুধু এনজিও বা সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় বসে না থেকে নিজে যেন অন্যকে সাহায্য করে সে বিষয়ে সচেষ্ট হতে হবে।

৪. অতি দ্রুত উদ্ধার দল নিয়ে খাল,নদী,পুকুর ও সমুদ্রে ভাসা বা বনাঞ্চলে বা কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধার করুন।

৫. ঝড় একটু কমলেই ঘর থেকে বের হবেন না। পরে আরও প্রবল বেগে অন্যদিক থেকে ঝড় আসার সম্ভাবনা বেশি থাকে।

৬. রিলিফের মুখাপেক্ষী না হয়ে নিজের পায়ে দাঁড়াতে সচেষ্ট হোন। রিলিফের পরিবর্তে কাজ করুন। কাজের সুযোগ সৃষ্টি করুন। রিলিফ যেন মানুষকে কর্মবিমুখ না করে কাজে উৎসাহি করে সেভাবে রিলিফ বিতরণ করতে হবে।

৭. দ্বীপের বা চরের নিকটবর্তী কাদার মধ্যে আটকে পড়া লোকদের উদ্ধারের জন্য দলবদ্ধ হয়ে দড়ি ও নৌকার সাহায্যে লোক উদ্ধার কর্মআরম্ভ করুন। কাদায় আটকে পড়া লোকের কাছে দড়ি বা বাঁশ পৌঁছে দিয়ে তাকে উদ্ধার কাজে সাহায্য করা যায়।

৮. পুকুরের বা নদীর পানি ফুটিয়ে পান করুন। বৃষ্টির পানি ধরে রাখুন।

৯. নারী, বৃদ্ধ, প্রতিবন্ধী ও অসুস্থ লোকদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থায় ত্রাণ বন্টন (আলাদা লাইনে) করুন।

১০. দ্রুত উৎপাদনশীল ধান ও শাক-সব্জির জন্য জমি প্রস্তুত করুন,বীজ সংগ্রহ করুন এবং কৃষি কাজ শুরু করুন যাতে যথাসম্ভব তাড়াতাড়ি ফসল ঘরে আসে।

আবহাওয়া বিভাগ জানায়, ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের ৭৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ১৬০ কিলোমিটার যা ঝড়ো হাওয়ার আকারে ১৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত বৃদ্ধি পাচ্ছে। ঘূর্ণিঝড় কেন্দ্রের কাছে সাগর খুবই বিক্ষুব্ধ রয়েছে।

আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, ফণীর আঘাত বেশ মারাত্মক হতে পারে। ফণীর প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসও হতে পারে। ডুবে যেতে পারে নিম্নাঞ্চল।

উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত সব মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে যাতে স্বল্প সময়ের নোটিশে তারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে পারে। সেই সঙ্গে তাদের গভীর সাগরে বিচরণ না করতে বলা হয়েছে।

বাংলাদেশ আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য মতে, প্রবল শক্তি সঞ্চয়কারী ফণী ঘূর্ণিঝড়টি বুধবার দুপুর ১২টায় চট্টগ্রাম সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ২৩৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, কক্সবাজার থেকে ১ হাজার ১৯০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে, মোংলা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ৯৫ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে এবং পায়রা সমুদ্রবন্দর থেকে ১ হাজার ১০০ কিলোমিটার দক্ষিণ-পশ্চিমে অবস্থান করছিল।

গত রোববার (২৮ এপ্রিল) ফণীর অবস্থান ছিল বাংলাদেশ থেকে দেড় হাজার কিলোমিটারের বেশি দূরে। সোমবার ছিল ভারতের অন্ধ্রপ্রদেশের মছলিপত্তনম থেকে ১,০৯০ কিলোমিটার এবং চেন্নাইয়ের দক্ষিণ-পূর্ব থেকে ৮৮০ কিলোমিটার দূরে।

 

বিভাগ: লাইফস্টাইল