আজ- সোমবার, ১১ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পিরোজপুরের কাউখালীতে শতবর্ষী পুকুর রাতের আঁধারে ভরাট !

পিরোজপুরের কাউখালী উপজেলায় সরকারী বালক মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শতবর্ষী একমাত্র পুকুরটি দখলের চেষ্টা করছেন স্থানীয় প্রভাবশালীরা। আর তা দখল করতে রাতের আঁধারে সেখানে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে বালু দিয়ে ভরাট করার চেষ্টা করা হয়। গত শুক্রবার রাতের বেলায় বালু দিয়ে পুকুরটি ভরাটের চেষ্টা করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও পুলিশ প্রশাসনের বাঁধা উপেক্ষা করে রাতের আধাঁরে তা ভরাটের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ওই বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও স্থানীয়রা জানান, উপজেলা সদরের সরকারী বালক মাধ্যমিক ওই বিদ্যালয়টিতে ২টি পুকুর ছিল। ছাত্ররা ওই পুকুর ২টিতে গোসলসহ স্থানীয়রা তাদের পানির চাহিদা মিটাতেন এ পুকুর থেকে। কিন্তু গত প্রায় ১৫ বছর আগে এর সামনের পুকুরটি ভরাট করা হয়। এতে ওই বিদ্যালয়ের ছাত্ররাসহ স্থানীয়রা তাদের রান্নার পানিসহ নিত্য প্রয়োজনীয় কাজ এবং গোসলের অনেক অসুবিধার সৃষ্টি হয় বলে স্থানীয়রা জানান। ওই বিদ্যালয়ের একাধিক শিক্ষকরা জানান, স্থানীয় রাজনৈতিক প্রভাবশালীরা ওই বিদ্যালয়ের পিছনে থাকা একমাত্র পুকুরটি ইতিমধ্যে বারবার দখলের চেষ্টা করে ব্যর্থ হন। কিন্তু  গত শুক্রবার রাতে পুকুরটি ভরাট করার কাজ শুরু করেন।

উপজেলা সদরের একাধিক ব্যবসায়ীসহ ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন বাসিন্দারা জানান, পুকুরটির পানি স্থানীয়রা রান্নাসহ গোসলের কাজে ব্যবহার করেন। তাছাড়া ওই বিদ্যালয় সংলগ্ন থাকা দেড় শতাধিক দোকান-পাটে কোন অগ্নিকান্ডের সূত্রপাত হলে আগুন নেভাতে প্রয়োজনীয় পানির একমাত্র উৎস ওই পুকুরটি। কিন্তু শনিবার সকালে উঠে হঠাৎ পুকুর ভরাট দেখে অনেকটা অবাক হই। এ পুকুরটি ভরাট হলে বিদ্যালয়টির ঐতিহ্য হারানোসহ অগ্নিকান্ডের মারাত্মকভাবে ঝুঁকির সম্মুখিন হতে হবে। এছাড়া পুকুরটি দখল হলে স্থানীয় পরিবেশের বিপর্যয় ঘটবে।

এ ব্যাপারে বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বাবর আলী তালুকদার জানান, রাতের আঁধারে স্থানীয় প্রভাবশালীরা বিদ্যালয়ের শতবর্ষী পুকুরটি দখলের চেষ্টায় ভরাট করছেন। এ ব্যাপারে আমি অসহায় হয়ে আমার বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতির দায়িত্বে থাকা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে বিষয়টি জানিয়েছি।

পুকুর ভরাটের ব্যাপারে স্থানীয়দের কাছে জানতে চাইলে তারা জানান, নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, দখল কাজে জড়িতরা স্থানীয় প্রভাবশালী হওয়ায় স্থানীয়রা কেউই দখল কাজে অভিযুক্তদের নাম প্রকাশ করতে চান না। তবে যতদুর জানা গেছে, শাসক দলের স্থানীয় দুইজন প্রতিনিধিসহ তিন জনপ্রতিনিধি এ দখলের চেষ্টা ও ভরাট কাজের সাথে জড়িত রয়েছেন।

এ ব্যাপারে  উপজেলা চেয়ারম্যান আবু সাঈদ মনুর সাথে মুঠোফোনে কথা হলে তিনি জানান, ওই পুকুরটিতে প্রচুর ময়লা থাকায় তা নিঃস্কাসনের জন্য চেষ্টা চলছে।

বিদ্যালয়টির ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা খালেদা খাতুন রেখা জানান, শুক্রবার রাতে স্থানীয় প্রভাবশালীরা পুকুরটি ড্রেজারের মাধ্যমে বালু দিয়ে ভরাট করছেন এমন খবর শুনে সেখানে গিয়ে কাজ বন্ধ করে দেই। কিন্তু আমি চলে আসার পর ভোর রাতে আবার সেখানে বালু দিয়ে ভরাটের কাজ চলে।  কারা কি কারণে পুকুরটি ভরাট করছে তা কিছুই জানি না। আমি এমন অন্যায়ের ব্যাপারে প্রতিবাদ করতে গিয়ে পুরো অসহায় হয়ে পড়েছি।

বিভাগ: অন্যান্য,জাতীয়,টপ নিউজ,বরিশাল বিভাগ,ব্রেকিং নিউজ,সারাদেশ