আজ- শুক্রবার, ২২শে আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৭ই অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে দু’মাস ধরে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল পাচ্ছে না দরিদ্র মানুষ

পিরোজপুরের নাজিরপুরে এক ইউপি চেয়ারম্যানের গাফিলতিতে দু’মাস ধরে সরকারের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ১০ টাকা কেজির চাল পাচ্ছে না উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের দরিদ্র ও সাধারণ মানুষ।

২০১৬ সালে এ কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৯টি ইউনিয়নের নিদিষ্ট কার্ডধারীদের মাঝে ১০ টাকা কেজি ধরে মাসে ৩০ কেজির বিতরণ শুরু হয়। ওই ইউনিয়নের কার্ডধারীদের তালিকা প্রস্তুত, ভুয়া ও মৃত ব্যক্তির নামে কার্ড ইস্যুসহ নানা অনিয়মের কারণে গত ৩০ এপ্রিল ওই ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলার মো. শামীম গাজীকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদন্ডসহ জামানত বাজেয়াপ্ত এবং তার ডিলারশীপ বাতিল করে কর্তৃপক্ষ। এর পরপরই উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে চেয়ারম্যান, ইউপি সদস্য ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সমন্বয়ে ৯টি ইউনিয়নেরই স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হালনাগাদ তালিকা প্রস্তুত করার জন্য একটি কমিটি করা হয়। পাশাপাশি ওই ইউনিয়নে বিধি মোতাবেক নতুন ডিলার নিয়োগ করেন কর্তৃপক্ষ।

উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশনা অনুয়ায়ী ৮টি ইউনিয়ন থেকে মৃত ব্যক্তি, সরকারী অন্যান্য সুবিধাভোগীদের বাদ দিয়ে হালনাগাদ তালিকা সংশ্লিষ্ট দপ্তরে দেয়া হয়। ওই তালিকা অনুযায়ী গত দুই কিস্তির চাল নতুন তালিকা অনুযায়ী বিতরণও করা হয়, কিন্তু উপজেলার মালিখালী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান সুমন মন্ডল মিঠু নির্দেশনা অনুযায়ী এখনো তালিকা সরবরাহ না করায় গত দু’মাস ধরে সেখানে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির চাল বিতরণ করা যাচ্ছে না।

এ ব্যাপারে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত ডিলার কৃষ্ণ বসু বলেন, খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির ডিলারশীপ পাওয়ার পরে আমি উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক এর কার্যালয় থেকে ১৫ মে চালের ডিও গ্রহণ করে গোডাউন থেকে চাল উত্তোলণ করেছি। কিন্তু উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে একাধিকবার মালিখালী ইউনিয়নের খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির উপকারভোগী কার্ডধারীদের তালিকা চাওয়া হলে তিনি এখনো আমাকে তালিকা সরবরাহ করতে না পারায় আমি চাল বিতরণ করতে পারছি না। অফিস থেকে আমাকে জানানো হচ্ছে হালনাগাদ তালিকা এখনো চেয়ারম্যান তাদের অফিসে জমা দেয়নি।

সংশ্লিষ্ট ইউপি চেয়ারম্যান সুমন মন্ডল মিঠু বলেন, ইউএনও’র দেয়া কমিটির সদস্যদের নিয়েই যাচাই-বাচাই করে অধিকাংশ সদস্যদের মতামতের ভিক্তিতে তালিকা প্রস্তুত করে এক সপ্তাহ আগে অফিসে জমা দেয়া হয়েছে। ওই তালিকা যদি যথাযথভাবে করা না হয়, তাহলে কর্তৃপক্ষ আমাকে কৈফিয়ত তলব করছে না কেন? কৈফিয়ত তলব করলে আমি তার জবাব দিবো।

উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক শাহনাজ পারভীন বলেন, কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী যাচাই-বাচাই করে উপজেলার অন্য ৮টি ইউনিয়ন থেকে খাদ্যবান্ধব কর্মসূচির হালনাগাদ তালিকা সরবরাহ করলেও লিখিতভাবে নির্দেশনা দেয়ার পরেও মালিখালী ইউনিয়ন থেকে এখনো সঠিক ভাবে তালিকা সরবরাহ করা হয়নি। তাই ডিলারকে তালিকা দেয়া সম্ভব হয়নি, যে কারণে তিনি চাল বিতরণ করতে পারেননি।

ইউএনও মোহাম্মদ ওবায়দুর রহমান বলেন, অন্য ৮টি ইউনিয়ন যথা সময়ে যাচাই-বাচাই করে হালনাগাদ তালিকা সরবরাহ করেছে। কিন্তু মালিখালী ইউনিয়ন থেকে চেয়ারম্যান সঠিকভাবে এখনো তালিকা জমা দেয়নি। তিনি বারবার খাদ্য নিয়ন্ত্রকের কাছে সময় নিয়ে বিলম্ব করছেন। তাই চাল বিতরণ করা সম্ভব হচ্ছে না। তবে দুই’এক দিনের মধ্যে তিনি তালিকা সরবরাহ করতে ব্যর্থ হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

বিভাগ: অন্যান্য,জাতীয়,টপ নিউজ,বরিশাল বিভাগ,ব্রেকিং নিউজ,মিডিয়া,সারাদেশ