আজ- শনিবার, ১৬ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ১লা অক্টোবর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

পিরোজপুরে খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধারা আর নেই

পিরোজপুরের খেতাবপ্রাপ্ত মুক্তিযোদ্ধাদের আর কেউ বেঁচে নেই। বেঁচে আছে তাদের বীরত্বগাঁথা।মুক্তিযুদ্ধে বিশেষ অবদান রাখা পিরোজপুরের যোদ্ধারা হলেন, মেজর (অব.) মেহেদী আলী ইমাম (বীর বিক্রম), মো. আনিছ মোল্লা (বীর বিক্রম), শহীদ আবুল কাশেম হাওলাদার (বীর বিক্রম), এম এ খালেক (বীর প্রতীক) ও আলী আকবর (বীর প্রতীক)।

জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান যাদের মহাবীর আখ্যা দিয়ে স্বহস্তে স্বাক্ষর দিয়েছিলেন পিরোজপুরের তাদের কেউই আর বেঁচে নেই।

মেজর (অব.) মেহেদী আলী ইমামের আদিনিবাস মঠবাড়িয়া উপজেলার দাউদখালী গ্রামে। ৯নং সেক্টরের বুকাবুনিয়া সাব সেক্টর কমান্ডার মেহেদী ছিলেন পাক হানাদারদের ত্রাস। ১৯৯৬ সালের স্বাধীনতার মাসে তিনি মারা যান। তার বীর বিক্রম খেতাব নং ১৪।

মঠবাড়িয়ার খায়ের ঘটিচোরা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন আনিছ মোল্লা। রংপুরে ইপিআর উইং এ কর্মরত অবস্থায় মুক্তিযুদ্ধ অংশ নেন তিনি। পুরো নয় মাস ৬নং সেক্টরের সাহেবগঞ্জ সাব-সেক্টরের সবকটি সম্মুখযুদ্ধে বিশেষ ভূমিকা রাখেন তিনি। তার বীর বিক্রম খেতাব নং-১০১।

ভাণ্ডারিয়ার রাধানগরে জন্মগ্রহণ করেন আবুল কাশেম হাওলাদার। মুক্তিযদ্ধের সময়ে ইপিআর-এ চাকরি করতেন তিনি। ১৯৭১ সালে রাজশাহী ইপিআর সেক্টর হেড কোয়ার্টারে কর্মরত ছিলেন। বঙ্গবন্ধু স্বাধীনতা ঘোষণা করলে কাশেম ঝাঁপিয়ে পড়েন যুদ্ধে। ৭নং সেক্টরের যুদ্ধে বীরত্বপূর্ণ অবদান রাখেন। রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুরে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমণে পাকবাহিনী পিছু হটতে থাকলে কাশেম জয়বাংলা স্লোগান দিয়ে সামনে এগিয়ে যান। সেই সময় এক পাকসেনার গুলিতে ক্ষতবিক্ষত হয়ে মাটিতে পড়ে গিয়েও সহযোদ্ধাদের যুদ্ধ চালিয়ে যেতে বলে তিনি এবং পরে সেখানেই মারা যান। তার বীর বিক্রম খেতাব নং ১০৯।

ভাণ্ডারিয়া উপজেলার শিয়ালকাঠী গ্রামে জন্ম নেয়া এম এ খালেক ছিলেন পাকিস্তান ইন্টারন্যাশনাল এয়ারের বৈমানিক। ২৫ মার্চ তিনি বিমান চালিয়ে ঢাকা আসেন এবং সেই রাতেই তিনি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। মুক্তিবাহিনীর নিজস্ব বিমান বাহিনী গঠনে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল। দেশ স্বাধীন হওয়ার পর ১৯৭২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি বিমান দুর্ঘটনায় তিনি নিহত হন। তার বীর প্রতীক খেতাব নং-৩০৪।

ভাণ্ডারিয়ার গৌরীপুরের আলী আকবর ছিলেন পাকিস্তান সেনাবাহিনীর তৃতীয় ইস্ট বেঙ্গল রেজিমেন্টে। সৈয়দপুর সেনানিবাসে ৩১ মার্চ ৩২ জন পাঞ্জাবের বিরুদ্ধে এক রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হন তিনি। পরে ভারতে গিয়ে চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে জুলাই মাসের মাঝামাঝি মুক্তিযুদ্ধে ঝাঁপিয়ে পড়েন। ২০১২ সালের জানুয়ারিতে তিনি ইন্তেকাল করেন। তার বীর প্রতীক খেতাব নং-৮২।

বিভাগ: অন্যান্য,জাতীয়,টপ নিউজ,বরিশাল বিভাগ,ব্রেকিং নিউজ,সারাদেশ