আজ- শুক্রবার, ১৫ই আশ্বিন, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

হাইকোর্টের নির্দেশেও পিরোজপুরের নাজিরপুরে রাস্তা থেকে সরানো হচ্ছে না বিদ্যুতের খুঁটি

 

হাইকোর্টের নির্দেশনা থাকা সত্ত্বেও সারা দেশের ন্যায় পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলায় সড়ক-মহাসড়কের মধ্যে থাকা বিপজ্জনক বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর কাজ শুরু হয়নি। সড়ক পরিবহন সচিব, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের চেয়ারম্যান, পিডিবি কর্তৃপক্ষসহ সংশ্লিষ্টদের ৬০ দিনের মধ্যে এই আদেশ বাস্তবায়ন করতে হাইকোর্টের নির্দেশনা ছিল।

কিন্তু অজ্ঞাত কারণে সাড়ে চার মাস অতিবাহিত হলেও নাজিরপুর উপজেলায় এসব খুঁটি সরানোর কাজ এখনো শুরুই হয়নি। নাজিরপুর উপজেলা সদরের প্রধান সড়কে থানা ভবনের সামনে রাস্তার ওপর ১টি এবং একই সড়কে সোনালী ব্যাংক নাজিরপুর শাখার সামনে রাস্তার ওপর একটিসহ উপজেলার বিভিন্ন স্থানে রাস্তার মধ্যে ও কিনারে অনেক খুঁটি রয়েছে। শুধু খুঁটি থাকাই নয়, ঘটছে দুর্ঘটনা।

ঠিকাদাররা জানিয়েছেন, বারবার পল্লী বিদ্যুৎ অফিসে খুঁটি সরানোর ব্যাপারে যোগাযোগ করে কোনো ফল না পেয়ে রাস্তার মাঝে খুঁটি রেখেই আমাদের কাজ করতে হয়েছে। এ ব্যাপারে বিদ্যুৎ বিভাগের উদাসীনতা রয়েছে বলে মনে করছেন উপজেলার সচেতন মহল।

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশনের নাজিরপুর উপজেলা শাখার সভাপতি আতিয়ার রহমান চৌধুরী নান্নু বলেন, রাস্তার মাঝে পল্লী বিদ্যুতে ঝুঁকিপূর্ণ খুঁটি অপসারনের জন্য আমি ব্যক্তিগতভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে একাধিকবার বলেছি। তাছাড়া এ সংক্রান্তে মহামান্য হাইকোর্ট একটি নির্দেশনা রয়েছে। তার পরেও এগুলো কেন অপসারণ করা হচ্ছে না তা বুঝতে পারছি না। বিভিন্ন সময়ে রাস্তার মাঝে এ খুঁটিগুলো থাকায় মানুষ দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছে।

পিরোজপুর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির নাজিরপুর জোনাল অফিসের এজিএম সুমন দাস জানান, আমরা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এ সংক্রান্তে একটি চিঠি পেয়েছি। ওই চিঠি পেয়ে এ উপজেলায় এ ধরণের কতগুলো খুঁটি আছে তা সনাক্ত করার জন্য ইউএনও’র মাধ্যমে উপজেলার সকল ইউপি চেয়ারম্যানকে চিঠি দিয়েছি। নিজেরাও কয়েকটি খুঁটি সনাক্ত করেছি। চূড়ান্ত তালিকা প্রস্তুত করার পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে।

উল্লেখ্য, সড়ক মহাসড়কে থাকা বিদ্যুতের খুঁটি সরানোর ব্যাপারে ব্যারিস্টার সাইয়্যেদুল হক সুমন রিটের প্রেক্ষিতে হাইকোর্টের বিচারপতি শেখ হাসান আরিফ ও বিচারপতি রাজিক আল জলিলের সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ গত ১৪ ফেব্রুয়ারি এ আদেশ দেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মোখলেছুর রহমান।

বিভাগ: অন্যান্য,জাতীয়,তথ্য প্রযুক্তি,ফিচার,বরিশাল বিভাগ,রাজনীতি,সারাদেশ