আজ- বুধবার, ২৭শে মে, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ, ১৩ই জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

spot_img

রোমাঞ্চকর লড়াইয়ের পর জিতল অস্ট্রেলিয়া

ম্যাচের দুই ইনিংসের শুরুতেই দুর্দান্ত খেলেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজ, কিন্তু সময় যত গড়িয়েছে ততোই পিছিয়েছে তারা। যে কারণে শুরুতে পিছিয়ে থেকেও, দুই ইনিংসে দারুণভাবে ঘুরিয়ে দাঁড়িয়ে জয়ের দেখা পেয়ে গেছে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন অস্ট্রেলিয়া।

আগে ব্যাট করতে নেমে মাত্র ৭৯ রানে ৫ উইকেট হারালেও স্টিভেন স্মিথ ও কল্টার নাইলদের ব্যাটে ভর করে ঠিকই ২৮৮ রানের লড়াকু সংগ্রহ দাঁড় করায় অস্ট্রেলিয়া। যা তাড়া করতে নেমে ৪০ ওভার পর্যন্তও ভালোভাবে ম্যাচে ছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ।

কিন্তু শেষদিকে মিচেল স্টার্কের গতির বিপক্ষে আর পেরে ওঠেনি ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা। যে কারণে তাদের ইনিংস থেমে যায় ৯ উইকেটে ২৭৩ রানে। দুর্দান্ত কামব্যাক করে ১৫ রানে ব্যবধানে ম্যাচ জিতে যায় অসিরা। দুই ম্যাচে এটি দ্বিতীয় জয় তাদের। অন্যদিকে সমান ম্যাচে প্রথম পরাজয় ক্যারিবীয়দের।

২৮৯ রানের লক্ষ্যে ওয়েস্ট ইন্ডিজ ব্যাট করতে নামলে রিভিউ রিভিউ খেলায় জমে ওঠে ম্যাচ। বারবার আম্পায়ারদের ভুল এবং ক্যারিবীয় ব্যাটসম্যানরা রিভিউ নিয়ে বদলে দেন আম্পায়ারের সিদ্ধান্ত।

ওয়েস্ট ইন্ডিজ ইনিংসের তৃতীয় ওভারের ঘটনা। মিচেল স্টার্কের দুর্দান্ত সব ডেলিভারি ব্যাটের পাশ দিয়ে চলে যাচ্ছিল ক্রিস গেইলের, ঠিকমতো দেখতেই পাচ্ছিলেন না। এর মধ্যে ওভারের পঞ্চম বলটি গেইলের ব্যাটের একদম খুব কাছে দিয়ে চলে যায়। অস্ট্রেলিয়ানদের আবেদনে আঙুল তুলে দেন আম্পায়ার।

গেইলও দেরি করেননি, রিভিউ নিয়ে নেন সঙ্গে সঙ্গে। রিভিউতে দেখা যায় ব্যাটে বল লাগেনি। স্টার্কের পরের ডেলিভারিটি ওয়াইড হয়। শেষ বলে আবারও আবেদন। এবার গেইলের প্যাডে বল লেগেছিল। লেগ বিফোরের আবেদনে সাড়া দেন আম্পায়ার। এবারও ক্যারিবীয় ওপেনার রিভিউ নিয়ে নেন। রিপ্লেতে দেখা যায়, লেগ স্ট্যাম্প মিস করে বেশ দূর দিয়ে চলে যেতো বল।

টানা দুই রিভিউ জিতে যান গেইল। তবে তার শেষটা হয়েছে ওই রিভিউয়েই, স্টার্কেরই বলে। ইনিংসের পঞ্চম ওভারে অজি পেসারের এলবিডব্লিউয়ের আবেদনে আম্পায়ার আউট দিলে আবারও দাঁড়িয়ে যান গেইল। তবে রিভিউতে দেখা যায়, এবার লেগ স্ট্যাম্প পেয়ে যায় বল। ১৭ বলে ২১ রানে থামতে হয় গেইলকে।

তবে ইউনিভার্স বস আউট হওয়ার আগেই অবশ্য ইনিংসের দ্বিতীয় ওভারে ১ রান করে আউট হন এভিন লুইস। তৃতীয় উইকেটে ৬৮ রানের জুটি গড়েন শাই হোপ এবং নিকলাস পুরান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ব্যাট করতে থাকা পুরান আউট হন ৯৯ রানের মাথায়। ফেরার আগে ৩৬ বলে ৪০ রান করেন তিনি।

বেশিক্ষণ থাকতে পারেননি শিমরন হেটমায়ার। রানআউটে কাঁটা পড়ার আগে হোপকে নিয়ে যোগ করেন ঠিক ৫০ রান, নিজের নামের পাশে তখন ২৮ বলে ২১ রান। অন্যপ্রান্তের ব্যাটসম্যানরা এক এক করে আউট হলেও একপ্রান্ত ধরে রেখে ফিফটি তুলে নেন ফর্মে থাকা হোপ।

তাকে সাজঘরে পাঠান কামিনস। ৩৫তম ওভারের শেষ বলে দলীয় ১৯০ রানের মাথায় পঞ্চম আউট হওয়ার আগে ১০৫ বল খেলে ৬৮ রান করেন হোপ। ক্যারিবীয়দের জয়ের জন্য তখন প্রয়োজন ৯০ বলে ৯৯ রান, হাতে ছিল ৫টি উইকেট।

তখন উইকেটে অধিনায়ক জেসন হোল্ডার এবং আন্দ্রে রাসেলের মতো ব্যাটসম্যানরা থাকায় সহজ জয়ই দেখছিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। রাসেল ১১ বলে ১৫ রান করে আউট হলেও হোল্ডার খেলতে থাকেন দলের চাহিদা। ব্যর্থ কার্লোস ব্রাথওয়েট, করেন ১৭ বলে ১৬ রান।

Starc

তখন পুরোপুরি একা বনে যান হোল্ডার। হাতের মুঠোয় থাকা ম্যাচটি আস্তে আস্তে বেরিয়ে যাচ্ছে দেখে আক্রমণাত্মক শট খেলার চেষ্টায় শর্ট ফাইন লেগে ধরা পড়েন ক্যারিবীয় অধিনায়ক। ৪৬তম ওভারের শেষ বলে ২৫২ রানের মাথায় হোল্ডার আউট হওয়ার পরই মূলত নিশ্চিত হয়ে যায় তাদের পরাজয়। আউট হওয়ার আগে ৭ চার ও ১ ছয়ের মারে ৫৭ বলে ৫১ রান করেন হোল্ডার।

ম্যাচ জিততে তখন শেষ চার ওভারে মাত্র ২ উইকেট হাতে নিয়ে ৩৭ রান করতে হতো উইন্ডিজকে। মিচেল স্টার্কের আগুনে বোলিংয়ে তা করা হয়নি তাদের। গত বিশ্বকাপের সেরা খেলোয়াড় স্টার্ক একাই ৫ উইকেট নিলে

অসিদের পক্ষে বল হাতে সবচেয়ে সফল বাঁহাতি পেসার স্টার্ক। দশ ওভারের স্পেলে এক মেইডেনের সহায়তায় মাত্র ৪৬ রান খরচায় ৫ উইকেট নেন তিনি। এছাড়া প্যাট কামিনস ২ ও অ্যাডাম জাম্পা নেন ১টি উইকেট।

এর আগে টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতেই ক্যারিবীয় বোলিং তোপে রীতিমত কোণঠাসা হয়ে পড়েছিল অস্ট্রেলিয়া। ইনিংসের তৃতীয় ওভারে প্রথম উইকেট হারায় দলটি।

ওসানে থমাসের বলে উইকেটরক্ষক শাই হোপের ক্যাচ হয়ে ফেরেন ওপেনার অ্যারন ফিঞ্চ (৬)। এরপর আরেক ওপেনার ডেভিড ওয়ার্নারকেও (৩) হারিয়ে বসে অস্ট্রেলিয়া।

উসমান খাজা দেখেশুনেই খেলছিলেন। কিন্তু আন্দ্রে রাসেলের বলে উইকেটের পেছনে শাই হোপের দুর্দান্ত এক ক্যাচ হন তিনি (১৩)। এরপর গ্লেন ম্যাক্সওয়েল ফেরেন নিজের ভুলে। নিজের দ্বিতীয় বলেই শেলডন কট্রেলকে পুল করে বসেন মারকুটে এই ব্যাটসম্যান।

রানের খাতা খোলার আগেই শর্ট বলের ফাঁদে ধরা পড়েন ম্যাক্সওয়েল। পুলটা ব্যাটের কানায় লেগে ভেসে যায় বাতাসে, শাই হোপের সেটা গ্লাভসবন্দী করতে একদমই কষ্ট হয়নি। ৭.৪ ওভারেই ৩৮ রানের মধ্যে ৪ উইকেট হারিয়ে তখন রীতিমত ধুঁকছে অস্ট্রেলিয়া।

এরপর স্মিথের সঙ্গে ৪১ রানের একটি জুটি গড়ে জেসন হোল্ডারের শিকার হয়ে ফেরেন মার্কাস স্টয়নিস (১৯)। ৭৯ রানে ৫ উইকেট হারায় অস্ট্রেলিয়া। সেখান থেকে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ায় দলটি, ফেরে লড়াইয়ে।

যে লড়াইয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন সাবেক অধিনায়ক স্টিভেন স্মিথ। ষষ্ঠ উইকেটে অ্যালেক্স কারের সঙ্গে ৬৮ আর সপ্তম উইকেটে নাথান কল্টার নাইলের সঙ্গে ১০২ রানের বড় দুটি জুটি গড়ে দলকে দারুণভাবে ম্যাচে ফিরিয়েছেন তিনি।

শেষ পর্যন্ত থমাসের শিকার হন স্মিথ, ১০৩ বলে ৭ বাউন্ডারিতে করেন ৭৩ রান। পরের কাজটা একাই সেরেছেন নাথান কল্টার নাইল। ৬০ বলে ৮ চার আর ৪ ছক্কায় ৯২ রানের অবিশ্বাস্য এক ইনিংস খেলেন লোয়ার অর্ডার এই ব্যাটসম্যান।

ওয়েস্ট ইন্ডিজের পক্ষে ২টি করে উইকেট নেন ওসানে থমাস, আন্দ্রে রাসেল আর শেলডন কট্রেল।

Related Articles

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

Stay Connected

0FansLike
0FollowersFollow
0SubscribersSubscribe
- Advertisement -spot_img

Latest Articles