আজ- শুক্রবার, ২৪শে অগ্রহায়ণ, ১৪২৯ বঙ্গাব্দ, ৯ই ডিসেম্বর, ২০২২ খ্রিস্টাব্দ

ভান্ডারিয়া প্রতিনিধি : পিরোজপুরের ভান্ডারিয়ায় এ বছর দাখিল পরীক্ষায় পাশ করা শিক্ষার্থীদের জালিয়াতির মাধ্যমে আলিম শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন করার অভিযোগ পাওয়া গেছে উপজেলার এক মাদ্রাসা অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে।
জালিয়াতির শিকার শিক্ষার্থীরা জানায়, দাখিল পরীক্ষায় পাশ করার পর তারা তাদের পছন্দমত প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য অনলাইনে আবেদন করতে যান। এ সময় তারা দেখতে পান যে, উপজেলার আল গাজ্জালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আলিম শ্রেণিতে ভর্তির জন্য তাদের আবেদন করা হয়ে গেছে। যদিও একজন শিক্ষার্থী ভর্তির জন্য ১০টি প্রতিষ্ঠান পছন্দ করতে পারেন, তাদের ক্ষেত্রে শুধুমাত্র আল গাজ্জালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় আবেদন করা হয়েছে।

এতে করে শিক্ষার্থীদের অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে ভর্তির কোন সুযোগ থাকছে না। ভূক্তভোগী শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, গোপনে তাদের তথ্য চুরি করে ওই মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ মাহমুদ তাদের ভর্তির আবেদন পূরণ করেছেন।
জালিয়াতির শিকার উপজেলার ইসলামিয়া দাখিল বালিকা মাদ্রাসা থেকে দাখিল পাশ করা সুমাইয়া জাহান জিম্মি জানান, তিনি উপজেলার ভান্ডারিয়া সরকারি কলেজে ভর্তির জন্য আবেদন করতে গেলে দেখেন যে আল গাজ্জালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসায় ভর্তির জন্য তার আবেদন করা হয়ে গেছে।
উপজেলার ধাওয়া বায়তুল আমান দাখিল মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মোঃ জালাল আহম্মেদ জানান, তার প্রতিষ্ঠান থেকে পাশ করা অধিকাংশ শিক্ষার্থীদের উচ্চ মাধ্যমিক শ্রেণিতে ভর্তির আবেদন তাদের অজান্তেই আল গাজ্জালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার জন্য করা হয়ে গেছে। সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে জালিয়াতির মাধ্যমে ওই মাদ্রসার অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের ভর্তির আবেদন করেছেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
একই অভিযোগ করেছেন উপজেলার ইকরি নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসা এবং বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক। ইকড়ি নেছারিয়া দাখিল মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক একেএম নজরুল ইসলাম জানান, তারা বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রশাসনের কাছে যাবেন।
বিপিএম দাখিল মাদ্রাসার তত্ত্বাবধায়ক মোঃ আমীর হোসেন জানান, বিষয়টি নিয়ে বিগত কয়েক দিন ধরে শিক্ষার্থীদের ফোনে তিনি খুবই বিরক্ত।
তবে নিজের বিরুদ্ধে অভিযোগ অস্বীকার করে আল গাজ্জালী ইসলামিয়া ফাজিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ আব্দুল্লাহ মাহমুদ জানান, তার প্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য কারা আবেদন করেছেন তা তিনি জানেন না।
এ ব্যাপারে উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা জহিরুল আলম জানান, তিনি বিষয়টি মৌখিক ভাবে শুনেছেন। এ ব্যাপারে ভূক্তভোগীদের লিখিত ভাবে অভিযোগ দেওয়ার জন্য তাদেরকে বলেছেন বলেও জানান তিনি।
লিখিত অভিযোগ পাওয়ার পর বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
সাধারণ শিক্ষার ক্ষেত্রে এ মাসের ১২ তারিখ থেকে অনলাইনে ভর্তির আবেদন শুরু হয়েছে এবং আবেদন করা যাবে ২৩ তারিখ পর্যন্ত। কিন্তু পরবর্তিতে আসন খালি না থাকায় শিক্ষার্থীদের পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রথম ধাপে ভর্তি হওয়া সুযোগ থাকছে না।

বিভাগ: বরিশাল বিভাগ,ব্রেকিং নিউজ